
তরিকুল ইসলাম,খুলনা ব্যূরোঃ এসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, আবার কখনও ধর্ষন ও হত্যা চেষ্টার মামলায় ফাঁসিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার জনসাধারনের হয়রাণীর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। মামলাবাজ ওই মহিলার কবল থেকে পরিত্রান পেতে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার বরাবর স্থানীয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও অত্র ইউনিয়নের ১০ জন ইউপি সদস্যের সুপারিশ সহ গণস্বাক্ষর যুক্ত আবেদন গত ২১ অক্টোবর জমা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া গত ২৩ অক্টোবর পিবিআই, খুলনা সহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চৌকুনি গ্রামের ইছাক আলী সানার মেয়ে তিনি। নাম রুবিনা খাতুন ওরফে গুলি(৫০)। অনুসন্ধান ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে এ পর্যন্ত এসিড অপরাধ দমন আইনে ৫ টি, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ৭টি মামলা সহ প্রায় ৪০/৫০ টি মামলা, জিডি ও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এসব মামলা ও অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান, থানার ওসি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তি সহ সাংবাদিকদের হয়রাণী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১৯৯৫ সালে কয়রার শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবককে ফাঁদে ফেলে স্বামী দাবি করে মামলা করেন রুবিনা। পরের বছর মহেশ্বরীপুর গ্রামের আজিজ শেখের ছেলে আবু দাউদ শেখকে স্বামী দাবি করে একই পন্থায় তার পরিবারের ৫ সদস্যকে জড়িয়ে নারী নির্যাতন ও যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। ২০০৭ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দীন মোল্লাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। এরপর ২০১৩ সালে মহেশ্বরীপুর গ্রামের আয়ুব আলী সানা নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে এসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা করেন। ২০০৯ সালে ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দীন মোল্লার ভাইকে প্রধান আসামি করে চেয়ারম্যান সহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
২০১৭ সালে চৌকুনি গ্রামের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম গাজীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। চলতি বছরের ৩ জুলাই একই ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে একই ধারায় আরও একটি মামলা করেন। ওই রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে গত সেপ্টেম্বরে এসিড অপরাধ দমন আইনে আটজনের বিরুদ্ধে আবারো একটি মামলা করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুবিনা বলেন, স্বামীর সংসার করতে যেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বামী ও শ্বশুরদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা করেছি। এছাড়া সম্প্রতি আমাকে এসিড মারায় রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
ওই মামলা থেকে বাঁচার জন্য রফিকুল আমার ও স্বাক্ষীদের হুমকি ধামকি দেয়া সহ নানা রকম অপপ্রচার করছে। মহেশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় কুমার সরদার ও অত্র ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ শামীম হোসেনকে রুবিনার করা সম্প্রতি একটি মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শামীম হোসেন বলেন, রফিকুলের নামে এসিড নিরোধ আইনে মামলা করে আমাকে স্বাক্ষী রাখা হয়েছে। তবে এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছু জানিনা। আর ওই মহিলা পূর্বেও মামলা দিয়ে অনেককে হয়রাণী করেছে। অপরদিকে ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় কুমার সরদার বলেন, রুবিনা এসিডে আক্রান্ত অবস্থায় আমার এখানে অভিযোগ নিয়ে আসার পরে ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি।
শুনেছি রফিকুল উনাকে এসিড মেরেছে। আর রুবিনাও তেমন সুবিধার মহিলা নয়। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জি এম আবুল কাসেম বলেন, রুবিনা তার ওয়ার্ডের মধ্যে বসবাস করে। প্রভাবশালীরা প্রভাবিত করে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে তাকে ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার আলামত তৈরি করতে সে নিজের গায়ে এসিড মারতেও ভয় পায় না। আমার বিরুদ্ধে আগে করা তিনটি মামলা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম মহসিন রেজা বলেন,
জানামতে ওই মহিলা এর ওর কাছ থেকে টাকা নিয়ে মানুষকে হয়রাণী করার জন্য মামলা করে। মান সম্মানের দিকে তাকিয়ে অনেকে টাকা দিয়ে মিটিয়ে নেয়। এ বিষয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, রুবিনার বিরুদ্ধে অভিযোগের কপি পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে যতটুকু জেনেছি উনি বাজে প্রকৃতির একজন মহিলা। আমরা এ পর্যন্ত ২০ টি মামলার কপি হাতে পেয়েছি। এসপি স্যারের সাথে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।